facebook Twitter RSS Feed YouTube StumbleUpon

Home | Forum | Chat | Tours | Articles | Pictures | News | Tools | History | Tourism | Search

 
 


Go Back   BanglaCricket Forum > Miscellaneous > Forget Cricket

Forget Cricket Talk about anything [within Board Rules, of course :) ]

Reply
 
Thread Tools Display Modes
  #1  
Old March 10, 2008, 11:48 AM
Miraz's Avatar
Miraz Miraz is offline
BC Staff
BC Editorial Team
 
Join Date: February 27, 2006
Location: London, United Kingdom
Favorite Player: Mohammad Rafique
Posts: 14,900
Default যে কারনে পাকিস্তানী যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে ব্যর্থ হলাম

তরুণ প্রজন্মকে আমাদের মুক্তিযুদ্ধ ও এর পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলীকে তুলে আনার এক নিজস্ব দায়বদ্ধতা থেকে সামহোয়্যারইনে আমার বাংলা ব্লগে এই সিরিজটি লিখেছিলাম । এরপর সবগুলি পর্ব একত্র করে একটি পোষ্ট দেই । সেই পোষ্টটি বাংলাক্রিকেটের সদস্যদের সাথেও শেয়ার করছি । আশা করি এ থেকে অনেক সদস্য নতুন কিছু জানতে পারবেন ।


যে কারনে পাকিস্তানী যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে ব্যর্থ হলাম (মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ও নির্যাতিত সকল সূর্য-সন্তানদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা সহ)

খন্দকার মিরাজুর রহমান

মুক্তিযুদ্ধ বিশ্বের ইতিহাসের একটি অন্যতম ভয়াবহ যুদ্ধ যাতে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর নৃশংসতার শিকার হয়ে শহীদ হয়েছেন ৩০ লক্ষ নারী পুরুষ যাদের সিংহভাগই ছিলেন নিরস্ত্র সাধারণ মানুষ । এর বাইরে হাজার হাজার নারী ধর্ষিত হয়েছেন, যৌনদাসী হিসাবে নির্যাতিত হয়েছেন । এই নির্যাতন থেকে রেহাই পায়নি এমনকি শিশুরাও । ১৯৪৯ সালে গৃহীত জেনেভা কনভেনশন কর্তৃক এই ধরণের ঘৃণ্য কর্মকান্ডের প্রতিটিই যুদ্ধাপরাধের অন্তর্ভূক্ত (১) । ২০০২ সালের জুলাইতে আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ আদালত যুদ্ধাপরাধের যে আওতা নির্ধারণ করে তার মাধ্যমেও এই অপরাধগুলি যুদ্ধাপরাধের অন্তর্ভূক্ত । তবে পাকিস্তানী বাহিনীর যুদ্ধাপরাধের সময় কাল ১৯৭১ হবার কারণে তা ১৯৪৯ সালের জেনেভা কনভেনশনের আওতায় আলোচনা করাই বেশী যুক্তিসংগত হবে ।

বাংলাদেশ পৃথিবীর একমাত্র দেশ নয় যেখানে যুদ্ধাপরাধের বিচার হয়নি তবে সম্ভবত: একমাত্র দেশ যে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ যথেষ্ট প্রমাণ থাকা সত্বেও রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রত্যাহার করেছে । আমি এখানে পাকিস্তানী যুদ্ধাপরাধীদের কথা বলছি । এইসব পাকিস্তানী যুদ্ধাপরাধীদের এ দেশীয় দোসর যেসব যুদ্ধাপরাধী আছে তারা সময়ের পালাবদলে রাষ্ট্রক্ষমতায় বসেছে, এখন সময় সুযোগমত তাদের করা যুদ্ধাপরাধকেও অস্বীকার করছে । পরবর্তীতে এইসব কুলাংগারদের কথাও আসবে, এদের যুদ্ধাপরাধের বিচারে আমাদের ব্যর্থতার কথাও আসবে । তবে এই পোষ্টে আমি মুলত: পাকিস্তানী যুদ্ধাপরাধী যারা আটক ছিল, যুদ্ধাপরাধের প্রমাণ ছিল, বিচার প্রক্রিয়া শুরু করার উদ্যোগ নেবার পরও কোন পরিস্থিতিতে, কি কারনে একটি নব্য-স্বাধীন দেশ তার জন্মযুদ্ধের সময় যারা মানবতার বিরুদ্ধে ঘৃণ্য অপরাধ সংঘটন করলো তাদের বিরুদ্ধে আনা সকল চার্জ "as an act of clemency" বা "দয়াশীলতা ও ক্ষমার মহত্ব" দেখিয়ে প্রত্যাহার করলো সেটি তুলে আনার চেষ্টা করবো । (২,৯)

১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর ভারত-বাংলাদেশের যৌথ বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পনের পরে প্রায় ৯০,৫০০ জনকে যুদ্ধবন্দী হিসাবে আটক হয় । এই যুদ্ধবন্দীদের মধ্যে ছিল প্রায় ৮০,০০০ উর্দিধারী সদস্য যার মধ্যে ছিল আর্মি (৫৫,৬৯২), নেভী ও এয়ার ফোর্স (১,৮০০), প‌্যারামিলিটারি (১৬,৩৫৪) বা পুলিশ সদস্য (৫,২৯৬)এবং বাদবাকী ১০,৫০০ ছিল সিভিলিয়ান (মুলত: বিহারী) যারা পাকিস্তানের পক্ষে যুদ্ধ করেছে । (৩)

এই যুদ্ধবন্দীদের সদ্য-স্বাধীন বাংলাদেশে জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও অধিকার সংরক্ষণ করে আটক রাখার মত অবকাঠামো না থাকায় সিদ্ধান্ত হয় ভারত এই ৯০,৫০০ যুদ্ধবন্দীকে আটক রাখবে এবং এদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তাসহ ভরণপোষনের দায়িত্ব পালন করবে । এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যুদ্ধবন্দীদের ভারতের নিকট হস্তান্তর করা হয় । এই যুদ্ধবন্দীদের জন্য তখনকার হিসাবে প্রতিমাসে ভারতের খরচ ছিল ১,০০০,০০০ মার্কিন ডলার । (৪)

এই যুদ্ধবন্দীদের মধ্যে থেকে প্রাথমিকভাবে প্রায় ১৫০০ জনকে চিন্হিত করা হলেও চূড়ান্তভাবে সর্বমোট ১৯৫ জনকে সুনির্দিষ্টভাবে যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত করা হয় । এবং এদের যুদ্ধাপরাধের জন্য বিচারের সিদ্ধান্ত নেয় তৎকালীন বাংলাদেশ সরকার । (৫) বাদবাকী যুদ্ধবন্দীদের পাকিস্তানে ফিরিয়ে নেয়ার জন্য ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের যৌথ উদ্যোগে আলোচনা শুরু হয় । বাংলাদেশ তখন স্বাধীন রাষ্ট্র হলেও এই যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও সহায়তা প্রয়োজন ছিলো ।

পাকিস্তান তখনো বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে নাই এবং পাকিস্তানের মিত্র রাষ্ট্র চীনের প্রদত্ত ভেটোর কারনে বাংলাদেশ তখনো জাতিসংঘের সদস্যপদও লাভ করে নাই । ১৯৭২ সালের আগষ্ট মাসে চীন বাংলাদেশকে জাতিসংঘের সদস্যপদ দেয়ার ব্যাপারে আনা প্রস্তাবের বিপক্ষে ভেটো দেয় । এটি ছিল চীনের জাতিসংঘে প্রদত্ত প্রথম ভেটো । (৬)

এই অবস্থায় ১৯৭৩ সালের এপ্রিল মাসে বাংলাদেশ যখন আনুষ্ঠানিক ভাবে ১৫০০ জন যুদ্ধাপরাধী থেকে ১৯৫ জনকে সুনির্দিষ্ট যুদ্ধাপরাধের দায়ে বিচারের উদ্যোগ নিল এবং জুলাই মাসে সংসদে "International Crimes Act 1973 " পাশ করলো তখন পাকিস্তান এই বিচারের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুললো । (৭) পাকিস্তানের মতে এটি জেনেভা কনভেনশনের লংঘন কেননা বাংলাদেশ তখনো জাতিসংঘের সদস্যরাষ্ট্র নয় ।

জেনেভা কনভেনশনের আর্টিকেল ৫, ৬ অনুযায়ী বাংলাদেশের এই বিচার প্রক্রিয়ার উদ্যোগের কোন সমস্যা ছিলোনা । বাংলাদেশ পাকিস্তানের দাবী প্রত্যাখ্যান করে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের এই বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং নিরপেক্ষতা পর্যবেক্ষণ করার আমন্ত্রণ জানায় । পাকিস্তান এই পরিস্থিতিতে পরিস্থিতিতে পাকিস্তানে আটকে পড়া ৪০০,০০০ বাঙালীকে স্বদেশে প্রত্যাবর্তনের অনুমতি দিতে অস্বীকার করে । (৭)

পাকিস্তানের অবস্থান বুঝতে হলে আমাদের একটু পেছন ফিরে তাকাতে হবে । ১৯৭২ এর ২ জুলাই ভারতের প্রধানমন্ত্রী এবং পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টের মধ্যে একটি চুক্তি সাক্ষরিত হয় যেটি "সিমলা চুক্তি" নামে পরিচিত । এই চুক্তি অনুযায়ী ভারত ও পাকিস্তান নিজেদের মধ্যে সকল প্রকার যুদ্ধ-বিবাদ এর আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করে দুইপক্ষের কাছেই আটককৃত যুদ্ধবন্দী ও আটকে পড়া নাগরিকদের বিনিময় কর্মসূচী চালুর ব্যাপারে সম্মত হয় (৮) । উল্লেখ্য আটককৃত পাকিস্তানী যুদ্ধবন্দীদের সিংহভাগ মুক্তিযুদ্ধের সময় আটক হলেও সিমলা চুক্তিতে বাংলাদেশ কোনো পক্ষ ছিলোনা । এর প্রধান কারণ ছিলো পাকিস্তান তখনো বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়নি এবং বাংলাদেশ সরকারের সাথে কোন প্রকার আলোচনায় রাজী ছিলোনা । বাংলাদেশ সিমলা চুক্তিকে স্বাগত: জানায় এবং যুদ্ধবন্দীদের রিপ্যাট্রিয়েশন চালু করার ব্যাপারে ভারতের কাছে সম্মতি প্রদান করে । (৯)

এরপর ১৯৭৩ সালের ১৭ই এপ্রিল ভারত এবং বাংলাদেশ এক যৌথ ঘোষণার মাধ্যমে বিদ্যমান হিউম্যানিট্যারিয় ন ক্রাইসিস মোকাবেলায় একটি দিক নির্দেশনা প্রদান করলো । যৌথ ঘোষনায় বলা হলো "they are resolved to continue their efforts to reduce tension, promote friendly and harmonious relationship in the sub-continent and work together towards the establishment of a durable peace ". এই ঘোষণার মাধ্যমেই ১৯৫ জন চিন্হিত যুদ্ধাপরাধী ছাড়া বাদ বাকী সকল যুদ্ধবন্দীর পাকিস্তানে রিপ্যাট্রিয়েশনের পথ উন্মুক্ত হলো (৯, ১০)। একই দিন রেডিও বাংলাদেশের এক ঘোষণার মাধ্যমে বাংলাদেশ ১৯৫ জনের বিচারের ব্যাপারে তাদের অনড় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করলো । (১১)

বাংলাদেশ এই বিচার প্রক্রিয়া শুরুর জন্য ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীকে বাংলাদেশের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তরের জন্য অনুরোধ করে এবং ভারত সেই প্রস্তাবে সম্মতি জ্ঞাপন করে । এই অবস্থায় পাকিস্তান ভারত কর্তৃক পাকিস্তানী নাগরিক এই ১৯৫ জনকে বাংলাদেশ (যার সার্বভৌম অস্তিত্বকে তখনো পাকিস্তান স্বীকার করেনা) হস্তান্তরের পরিকল্পনার প্রতিবাদ করে এবং আটকে পড়া বাংলাদেশী নাগরিকদের পণবন্দী হিসাবে ব্যবহারের হুমকি দেয় । (৭)

এরপরও বাংলাদেশ বিচার প্রক্রিয়া চালাবার ব্যাপারে অনড় অবস্থানে থাকলে ১৯৭৩ সালের ১১ই মে পাকিস্তান এই ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীকে (পাকিস্তানের ভাষায় যুদ্ধবন্দী) ভারত কর্তৃক বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তরের বিপক্ষে এবং এই বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রস্তাবিত বিচার প্রক্রিয়া জেনেভা কনভেনশনের লংঘন উল্লেখ করে ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাষ্টিসে একটি মামলা দায়ের করে । মামলার নথি নম্বর ৪২৬ । এই মামলার আর্জিতে পাকিস্তান সরকার হেগে অবস্থিত ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাষ্টিসের কাছে এই হস্তান্তর প্রক্রিয়া বন্ধ করার নির্দেশ দান এবং বাংলাদেশে প্রস্তাবিত বিচার প্রক্রিয়াকে অবৈধ ঘোষনার দাবী জানায় । (১২)

এই আর্জিতে পাকিস্তান এই ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীর কর্তৃত্ব দাবী করে তাদের আন্তর্জাতিক আদালতে নিরপেক্ষ ও যোগ্য বিচারক এর মাধ্যমে একটি ট্রাইবুন্যাল গঠনের প্রস্তাব দেয় এবং বাংলাদেশে গঠিত ট্রাইব্যুনালের আইনগত ভিত্তি বাতিলের দাবী জানায় । মামলার মুল নথি থেকে " Pakistan does not accept that India has a right to transfer its prisoner of wars for trial to Bangladesh and claims that by virtue of Article VI of genocide convention, persons charged with genocide shall be tried by a Competent Tribunal of the state in the territory of which the act was committed. This means that Pakistan has exclusive jurisdiction to the custody of persons accused of the crimes of genocide, since at the time acts are alleged to have been committed, the territory of East Pakistan was universally recognised as part of Pakistan.

....That a competent tribunal means a Tribunal of impartial judges, applying international law, and permitting the accused to be defended by counsel of their choice. ..... in the atmosphere of hatred that prevails in Bangladesh, such a competent tribunal cannot be created in practice....." (১১)

পাকিস্তান এই আর্জিতে সুকৌশলে যেটি এড়িয়ে যায় সেটি হলো ২৬শে মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা এবং ১৭ই এপ্রিল বাংলাদেশের সরকারের আনুষ্ঠানিক শপথ গ্রহণ । এর ফলে যুদ্ধাপরাধ সংঘটন হবার স্থল পূর্ব - পাকিস্তান পাকিস্তানের অন্তর্ভূক্ত এবং সেই সুবাদে সকল যুদ্ধবন্দীর কর্তৃত্ব, পাকিস্তানের এই দাবীর আইনগত ভিত্তি ছিল দুর্বল । অন্যতম প্রধান যুক্তি ছিল জাতিসংঘের ততদিনে বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে স্বীকৃতি প্রদান না করা ।

ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাষ্টিস মামলাটি শুনানির জন্য গ্রহণ করে এবং ভারত-পাকিস্তান উভয় পক্ষকে তাদের প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট প্রদান করার নির্দেশ দান করে । এই মামলাটি ছিলো বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু করবার ক্ষেত্রে কিছুটা হলেও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করে। (১২)

পাকিস্তান এই মামলা করলেও ভারতের সাথে যুদ্ধবন্দী প্রত্যর্পনের জন্য্ আলোচনা চালিয়ে যেতে থাকে । এবং বিপরীতে বাংলাদেশ ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীর বিচারের জন্য ট্রাইবুন্যাল গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করে । এর প্রাথমিক ধাপ হিসাবে সংসদে গৃহীত International Crimes Act 1973 বাংলাদেশ সরকারকে বাংলাদেশের নাগরিক ছাড়াও যে কোন দেশের নাগরিককে যুদ্ধাপরাধের দায়ে বিচারের ক্ষমতা প্রদান করে ।

International Crimes Act এর মুলকপি থেকে
" It gives Bangladesh the power to try and punish any person irrespective of his nationality, who, being a member of any armed, defence or auxiliary forces commits or has committed, in the territory of Bangladesh, whether before or after the commencement of this Act, any of the following crimes… namely crimes against humanity, crimes against peace, genocide, war crimes, violations of
humanitarian rules applicable in armed conflicts laid down in the Geneva Convention of 1949 and any other crimes under international law." (১৩)


এর মাঝে ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাষ্টিস ১৯৭৩ সালের ১৩ই জুলাই একটি সংক্ষিপ্ত সেশনে পাকিস্তানের দায়ের করা মামলাটি আদৌ ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাষ্টিসের আওতার মধ্যে পড়ে কিনা তা নির্ধারণের জন্য পাকিস্তানকে ১ অক্টোবর ১৯৭৩ এবং ভারতকে তার জবাব দেবার জন্য ১৫ই ডিসেম্বর ১৯৭৩ পর্যন্ত সময় বেধে দেয় । (১৪)

পাকিস্তান মামলাটি মুলত: ভারতকে চাপে ফেলার জন্য করলেও মামলাটি চালাতে উৎসাহী ছিলোনা । এর চাইতে তারা দ্বিপক্ষীয় আলোচনার দিকে বেশী গুরুত্ব প্রদান করে । যদিও প্রকৃত পক্ষে আলোচনা হচ্ছিল ত্রিমুখী । ভারত আর পাকিস্তানের সাথে আলোচনার পাশাপাশি সেই আলোচনার সূত্র ধরে আলোচনা হচ্ছিল ভারত আর বাংলাদেশের মধ্যে ।

অবশেষে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ১৯ দিন ব্যাপী আলোচনার পর বাংলাদেশের সম্মতিতে ২৮শে আগষ্ট ১৯৭৩ দিল্লীতে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় । এই চুক্তি অনুযায়ী ভারত বাংলাদেশ ও পাকিস্তান এই তিন দেশের মধ্যে যুদ্ধবন্দী প্রত্যার্পন ও আটকে পড়া নাগরিকদের বিনিময় অবিলম্বে শুরু করার সিদ্ধান্ত হয় । এই ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধী ব্যতীত বাদ বাকী পাকিস্তানী যুদ্ধবন্দীদের প্রত্যর্পনে সম্মত হয় এবং ১৯৫ জনকে যুদ্ধাপরাধের দায়ে বিচারের সম্মুখীন করতে অনড় থাকে । (১৫)

এই চুক্তি মোতাবেক সকল যুদ্ধবন্দীর প্রত্যর্পন সম্পন্ন হবার পর বাংলাদেশ এবং পাকিস্তান প্রথমবারের মত সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীর ভাগ্য নির্ধারন করতে সম্মত হয়। এই বিষয়টি নিস্পত্তির আগ পর্যন্ত এই যুদ্ধাপরাধীরা ভারতের তত্বাবধানে থাকবে । ১৩ই সেপ্টেম্বর ১৯৭৩ থেকে দিল্লী চুক্তি অনযায়ী যুদ্ধবন্দী প্রত্যর্পন এবং আটকে পড়া নাগরিক বিনিময় শুরু হয় । (৯)

বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশকে প্রথমবারের মত একটি বড় মাপের আন্তর্জাতিক সংস্থায় রিপ্রেজেন্ট করার সুযোগ পান আলজেরিয়ার রাজধানী আলজিয়ার্স এ অনুষ্ঠিত ন্যাম (নন এ্যালায়েন্স মুভমেন্ট) সম্মেলনে । ১৯৭৩ সালের ৫-৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে বিশ্বের অন্যান্য রাষ্ট্রপ্রধান বিশেষ করে মুসলিম দেশগুলির সাথে বাংলাদেশের একটি যোগাযোগ স্থাপিত হয় । ঐতিহ্যগতভাবে প্রায় সকল মুসলিম দেশই ন্যাম এর সদস্যরাষ্ট্র তাই জাতিসংঘের সদস্য না হবার পরও বাংলাদেশকে ন্যাম এর সদস্যপদ প্রধান করা হয় । (১৬)

এই সম্মেলনে আরব নেতৃবৃন্দের সাথে শেখ মুজিবের ফলপ্রসু আলোচনা হয় এবং আরব লীগ নেতৃবৃন্দ বাংলাদেশকে বিদ্যমান অর্থনৈতিক সংকট ও দেশ পুনর্গঠনে সর্বতোভাবে সহায়তার আশ্বাস দেয় । এরই সূত্র ধরে কুয়েত সরকার বাংলাদেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার জন্য বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণে স্বর্ণ মজুদ রাখে । এই আলোচনা ও সহযোগিতার রেশ ধরেই ৭৩ পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহে আরব লীগ নেতৃবুন্দের সক্রিয় অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায় । (১৭)

মিশরের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আনোয়ার সাদাতের নেতৃত্বে সৌদি আরবের রাজা ফয়সাল, আলজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট বুমেডিয়েন এর সহযোগিতায় পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যকার বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে একটি উদ্যোগ গ্রহণ করা হয় । বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সমস্যার মুলে ছিল ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধী যাদের বিচারে বাংলাদেশ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলো এবং এজন্য তখনো পাকিস্তান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে নাই । আর পাকিস্তানের মিত্র হিসাবে চীন বাংলাদেশকে জাতিসংঘের সদস্য হিসাবে যোগদানে ভেটো প্রদান করছে । এর মধ্যে চীন পুনরায় জানিয়ে দেয় ""After resolution of the war trials issue, Peking will recognise Dacca, and the way will be open for Bangladesh to be admitted to the United Nations" (১৮) ।

এর মাঝে আন্তর্জাতিক আদালতে ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধী হস্তান্তর বিষয়ে ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তানের মামলার সকল কাগজপত্র জমা দেবার তারিখ ১৫ই ডিসেম্বর ১৯৭৩ থেকে ১৭ই মে ১৯৭৪ পর্যন্ত বর্ধিত করা হলেও যুদ্ধাপরাধী সমস্যা নিরসনে আরব লীগ নেতৃবৃন্দের নেওয়া উদ্যোগের ফলে পাকিস্তান আন্তর্জাতিক আদালত থেকে মামলাটি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয় । ১৯৭৩ সালের ১৪ই ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক আদালতের রেজিষ্ট্রারের কাছে একটি চিঠিতে পাকিস্তান মামলাটি আর না চালাবার সিদ্ধান্ত জানায় এবং মামলাটি আন্তর্জাতিক আদালতের বিচারাধীন মামলার তালিকা থেকে বাদ দেবার জন্য অনুরোধ জানায় । এই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাষ্টিস ১৫ ই ডিসেম্বর ১৯৭৩ এক আদেশের মাধ্যমে, আদেশ নং - ৩৯৩, এই মামলাটি বাতিল ঘোষনা করে এবং তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় । (১৪)

আন্তর্জাতিক আদালত থেকে পাকিস্তানের মামলাটি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত আরব লীগ নেতৃবৃন্দের একটি বড় কূটনৈতিক সাফল্য বলে বিবেচিত হয় এবং এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার বিদ্যমান সমস্যা ভারতের মধ্যস্থতা ব্যতীত সরাসরি বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হয় । এবার আরব লীগ নেতৃবৃন্দ পাকিস্তানের উপর চাপ প্রয়োগ করেন বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দান করার জন্য । এর জবাবে জুলফিকার আলী ভূট্টো জানান যে বাংলাদেশ ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রত্যাহার করলেই কেবলমাত্র পাকিস্তান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেবে ।

এই কূটনৈতিক উদ্যোগ আরো গতি লাভ করে ১৯৭৪ সালের ২২-২৪ শে ফেব্রুয়ারী পাকিস্তানের লাহোরে অনুষ্ঠিতব্য ওআইসি শীর্ষ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে । বাংলাদেশ তখনো ওআইসির সদস্য নয় । প্রায় সকল সদস্য রাষ্ট্রের সম্মতি থাকা সত্বেও (ইরান, তুরস্ক ও পাকিস্তান ব্যতীত), পাকিস্তানের আপত্তির কারণে বাংলাদেশের ওআইসির সদস্যপদ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে । এর মধ্যে মিশরের প্রেসিডেন্ট আনোয়ার সাদাত, সৌদি রাজা ফয়সাল এবং জর্ডানের রাজা হুসেইন এর উদ্যোগে সাতটি মুসলিম দেশের প্রতিনিধি ঢাকা সফর করেন ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীর বিচারের উদ্যোগ থেকে সরে আসার জন্য শেখ মুজিবুর রহমানকে রাজী করাতে । কিন্তু শেখ মুজিবুর রহমান প্রাথমিকভাবে কোন শর্তসাপেক্ষে পাকিস্তানের স্বীকৃতি গ্রহণে অস্বীকার করেন এবং এই বিষয়ে আরো আলোচনা প্রয়োজন বলে অভিমত দেন। এরপর এই প্রতিনিধিদল বৈঠক করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভূট্টোর সাথে । তারা সেখানে শেখ মুজিবুর রহমানের অবস্থান জানান এবং যুদ্ধাপরাধী সমস্যা সমাধানের জন্য বাংলাদেশের ওআইসি সম্মেলনে অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরেন । (১৯, ২১)

এর মধ্যে আরব লীগ নেতৃবৃন্দ লাহোরে অনুষ্ঠিতব্য ওআইসি শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেবার জন্য বাংলাদেশের উপর চাপ প্রয়োগ করে কিন্তু পাকিস্তান স্বীকৃতি না দিলে ওআইসি সম্মেলনে যোগ না দেবার নীতিগত সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ পুনরায় জানিয়ে দেয় । (২০)

এই অবস্থায় আরব লীগ নেতৃবৃন্দের সাথে শেষ মুহুর্তের আলোচনায় অনেকটা নাটকীয়ভাবে ১৯৭৪ সালের ২২শে ফেব্রুয়ারী পাকিস্তান বাংলাদেশকে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসাবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি প্রদান করে । একই দিন ইরান এবং তুরস্কও বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি প্রদান করে । (২১) তবে পাকিস্তান স্বীকৃতি দিলেও যুদ্ধাপরাধী সমস্যা সমাধান না হওয়া পর্যন্ত চীন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দানে অস্বীকৃতি জানায় । এর মাধ্যমে পাকিস্তান আরব লীগ নেতৃবৃন্দের কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় কৌশলগত কারনে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েও চীনের মাধ্যমে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া থেকে সরে না আসা পর্যন্ত জাতিসংঘের সদস্য পদ লাভ করার ব্যাপারটি আটকে রাখে ।

২২ শে ফেব্রুয়ারী পাকিস্তানের স্বীকৃতি লাভ করার পর বাংলাদেশের একই দিন থেকে লাহোরে অনুষ্ঠিতব্য ওআইসি শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেয়াতে আর কোন বাধা থাকেনা । এই অবস্থায় ২২শে ফ্রেব্রুয়ারী সকালে কুয়েতের আমীরের ভাই কুয়েতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী নেতৃত্বে মুসলিম দেশগুলির একটি প্রতিনিধিদল একটি বিশেষ বিমানে করে ঢাকা আসেন এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে এসকর্ট করে লাহোরে নিয়ে যান ওআইসি শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেবার জন্য । ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের সময়কালে পাকিস্তানে রাষ্ট্রবন্দী হিসাবে আটক শেখ মুজিবুর রহমান এবার স্বাধীন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে পাকিস্তানের মাটিতে পা রাখেন । (২০)

লাহোর সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে আনোয়ার সাদাত, সৌদি আরবের রাজা ফয়সাল এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভূট্টোর সাথে আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় । এর মাঝে পাকিস্তান লাহোর সম্মেলনে ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীর মুক্তির জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে একটি প্রস্তাব পেশ করে এবং এর সপক্ষে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করে । (১৯, ২২)
লাহোর সম্মেলনে পাকিস্তানের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলে আরব লীগ নেতৃবৃন্দ ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীর মুক্তির ব্যাপারে নীতিগতভাবে সম্মত হয় এবং এ ব্যাপারে শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে আলোচনা শুরু করে । এর রেশ ধরে মিশরের প্রেসিডেন্ট আনোয়ার সাদাতের উপস্থিতিতে শেখ মুজিবুর রহমান এবং জুলফিকার আলী ভূট্টোর মধ্যে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় । বৈঠকে শেখ মুজিব ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ব্যাপারে তার অনড় অবস্থান থেকে সরে আসার প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন এবং দেশে ফিরে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবার কথা জানান । আনোয়ার সাদাতের এই উদ্যোগ এর সাফল্য নিয়ে ১৯৭৪ সালের ১১ই মে একটি নিবন্ধ প্রকাশ করে যার টাইটেল ছিলো "The Return of the Magician" । টাইম থেকে উদ্ধৃতি "In the most dramatic event of the summit, however, Sadat was able to reconcile Pakistan's Premier Zulfikar Ali Bhutto and Bangladesh Premier Sheik Mujibur Rahman, who have been enemies since Bangladesh split off from Pakistan two years ago. Bhutto solemnly recognized the independence of Pakistan's former east wing, [sb]while Sheik Mujib hinted that he will no longer press wartime atrocity charges against 195 Pakistani officers held prisoner in India. Mujib promised also to do "my bit" to reconcile Pakistan and India, a task that would tax even Henry Kissinger[/sb]." (২৩)

শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিশ্রুতিকে বাস্তবে রূপ দেবার জন্য লাহোর সম্মেলন এর পরপরই একটি সংক্ষিপ্ত সফরে বাংলাদেশে আসেন আনোয়ার সাদাত এবং আলজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট হউরি বুমেদিন (Houri Boummedine) । কয়েক ঘন্টার এই সফরে তারা শেখ মুজিবর রহমানের কাছ থেকে ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে চার্জ প্রত্যাহারের ব্যাপারে পুনরায় প্রতিশ্রুতি লাভ করেন এর বিনিময়ে তারা বাংলাদেশকে অর্থনৈতিক সাহায্য দেবার প্রতিশ্রুতি দেন । বাংলাদেশে তখন চরম অর্থনৈতিক মন্দা ও দুর্ভিক্ষাবস্থা চলছে । এর একটি বড় কারন ছিলো ১৯৭৩ সালের ৩১ শে ডিসেম্বর থেকে যুদ্ধ বিধ্বস্থ বাংলাদেশের জন্য জাতিসংঘের চলমান United Nations Relief Organization in Bangladesh (UNROB) কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়া । (১৯, ২৪)

আরব লীগ ও মুসলিশ নেতৃবৃন্দকে প্রতিশ্রুতি দিলেও বাংলাদেশের পক্ষে তখন মিত্র দেশ সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং ভারতের সম্মতি ব্যতীত এত বড় একটি প্রধান সিদ্ধান্ত নেয়া কঠিন ছিল । এই অবস্থায় শেখ মুজিব চিকিৎসার উদ্দেশ্যে মস্কো যান ১৯৭৪ এর মার্চ মাসে । সেখানে দুই সপ্তাহ অবস্থান করে চিকিৎসাকালীন সময়ে যুদ্ধাপরাধীদের ব্যাপারে সোভিয়েত ইউনিয়নের গ্রীন সিগন্যাল পাবার পর তিনি সম্মতি পাবার পর তিনি দেশে ফেরেন । মস্কো থেকে ফিরে একটি সংক্ষিপ্ত সফরে তিনি দিল্লী যান (২) এই ব্যাপারে তৎকালীন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর পরামর্শের জন্য । ভারত ও সোভিয়েত ইউনিয়নের অনাপত্তির পর, শেখ মুজিবুর রহমানের ওআইসি সম্মেলনে এবং আরব লীগ নেতৃবৃন্দের কাছে করা প্রতিশ্রুতি পূরণে আর কোন বাধা থাকেনা । বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শুধু যেই কাজটি করেননি সেটি হলো বাংলাদেশের মানুষের মতামত নেয়া এবং এই ব্যাপারে সংসদেও কোন বিল উত্থাপিত হয়নি ।

এই পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বিরাজমান সমস্যাগুলিকে সমধানের লক্ষ্যে ১৯৭৪ সালের ৫ই এপ্রিল থেকে নয়াদিল্লীতে এই তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ের বৈঠক শুরু হয় । বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. কামাল হোসেন, ভারতের পক্ষে শরণ সিং এবং পাকিস্তানের পক্ষে আজিজ আহমেদ । ৫ দিন ব্যাপী আলাপ আলোচনা চলার পর ১৯৭৪ সালের ৯ এপ্রিল ঐতিহাসিক ত্রিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় যেটি "TRIPARTITE AGREEMENT " নামে বেশী পরিচিত । এই চুক্তিতে ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ব্যাপারটি নিস্পত্তির পাশাপাশি এই তিন দেশে আটকে পড়া নাগরিকদের প্রত্যর্পনের ব্যাপারেও সিদ্ধান্ত হয় ।

এই ত্রিপক্ষীয় চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীর বিরুদ্ধে আনা সকল চার্জ "as an act of clemency" বা "দয়াশীলতা ও ক্ষমার মহত্ব" দেখিয়ে প্রত্যাহার করে নেয় । মুল চুক্তি থেকে উদ্ধৃতি [su][sb]"In the light of the foregoing and, in particular, having regard to the appeal of the Prime Minister of Pakistan to the people of Bangladesh to forgive and forget the mistakes of the past, the Foreign Minister of Bangladesh stated that the Government of Bangladesh has decided not to proceed with the trials as an act of clemency.[/su] It was agreed that the 195 prisoners of war may be repatriated to Pakistan along with the other prisoners of war now in process of repatriation under the Delhi Agreement."[/sb] (৯)

এর বিপরীতে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কৃত যুদ্ধাপরাধের জন্য বাংলাদেশের কাছে দু:খ প্রকাশ করেন যার মাধ্যমে যুদ্ধাপরাধের ব্যাপারটিকে স্বীকার করে নেয়া হয় যেটি পাকিস্তান সরকার অস্বীকার করে আসছিলো । আবারো মুল চুক্তি থেকে উদ্ধৃতি "The Minister of State for Defense and Foreign Affairs of the Government of Pakistan said that his Government condemned and deeply regretted any crimes that may have been committed" । বৈঠকে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উপমহাদেশের দেশগুলির মধ্যকার বিরাজমান একটি কষ্টদায়ক অধ্যায়ের সমাপ্তির মুল কৃতিত্ব প্রদান করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে । (In a magnanimous gesture, Pakistan's Foreign Minister Ahmed gave chief credit for bringing an end to a "painful chapter" in South Asia's history to Bangladesh's Prime Minister Sheik Mujibur Rahman.) । (২)

এভাবেই ইতিহাসের ঘৃণ্যতম যুদ্ধাপরাধ সংগঠন করার পরও, তাদের বিচারের জন্য প্রয়োজনীয় আইন থাকা সত্বেও এবং সকল প্রমাণাদি থাকার পরও মুক্তি পেয়ে গেল ১৯৫ জন পাকিস্তানী যুদ্ধাপরাধী । ১৯৭৪ এর ৩০শে এপ্রিল এর মধ্যে সকল যুদ্ধাপরাধী ভারত থেকে পাকিস্তানে ফেরত গেল ।

দেশের জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ বিশেষ করে যারা মুক্তিযুদ্ধে প্রিয়জন হারিয়েছেন এবং সক্রিয় ভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন তাদের কাছে এই ১৯৫ জন পাকিস্তানী যুদ্ধাপরাধীদের ক্ষমার বিষয়টি ব্যাপক হতাশা ও নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে । বিশেষ করে তৎকলীন বামপন্থী সংগঠনগুলি এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে । (২৫)

এই ঐতিহাসিক ঘটনাটিকে উপজীব্য করে টাইম ম্যাগাজিন ১৯৭৪ সালের ২২ শে এপ্রিল "End of a Bad Dream" নামে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে । সেখানে লাহোর সম্মেলনের পরে এই চুক্তিটিকে একটি স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া হিসাবে উল্লেখ করলেও বাংলাদেশের ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীর বিরুদ্ধে চার্জ প্রত্যাহারকে একটি বড় ছাড় হিসাবে উল্লেখ করা হয় । একই রিপোর্টে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শরণ সিংকে উদ্ধৃত করে লেখা হয় "The trials, tribulations and conflicts of our subcontinent will become a thing of the past—something of a bad dream that is best forgotten." । (২)

কিন্তু আসলেই কি আমরা এই bad dream কে ভুলতে পেরেছি নাকি ভোলা উচিত? মুক্তিযুদ্ধে শহীদ লক্ষ লক্ষ বাংলাদেশী, ধর্ষিত ও নির্যাতিত হাজার হাজার মা বোন, তোমরা আমাদের ক্ষমা করো । আমরা সহজেই অনেক কিছুই ভুলে যাই । তোমাদের উপর করা পাশবিক বীভৎসতার বিচার আমরা করতে পারিনি । তোমাদের এই অথর্ব সন্তানদের ক্ষমা করো ।



তথ্যসূত্র :
১। http://www.unhchr.ch/html/menu3/b/91.htm
২। End of a Bad Dream, Time, Monday April 22, 1974
৩। en.wikipedia.org/wiki/Indo-Pakistani_War_of_1971
৪। Time, Monday September 17, 1973
৫ । Bangladesh in 1972: Nation Building in a New State
Rounaq Jahan
Asian Survey, Vol. 13, No. 2 (Feb., 1973), pp. 199-210
৬ China, the Soviet Union, and the Subcontinental Balance
Sheldon W. Simon
Asian Survey, Vol. 13, No. 7 (Jul., 1973), pp. 647-658
৭। The weakness in the International Protection of Minority Rights, Javaid Rahman, Kluwer Law International, Page 96-97
৮। সিমলা চুক্তি, Click This Link এবং Click This Link
৯। Tripartite Agreement between India, Bangladesh and Pakistan for normalisation of relations in the subcontinent. New Delhi, April 9, 1974.
১০। AHMED, Ziauddin. The case of Bangladesh : bringing to. trial the perpetrators of the 1971. genocide. Page 103
১১। International court of Justice, Proceedings of Trial of Pakistani Prisoners of War (India vs Pakistan)
১২। International court of Justice, Trial of Pakistani Prisoners of War, Oral Arguments - Minutes of the Public Sittings held at the Peace Palace, The Hague, from 4 to 26 June 1973
১৩। Act No.XIX of 1973 (published in the Bangladesh Gazette, Extra, on July 20, 1973): An Act to provide for the detention, prosecution
and punishment of persons for genocide, crimes against humanity, war crimes and other crimes under international law.
১৪। International court of Justice, Trial of Pakistani Prisoners of War, Official Order of 15 December 1973, নথি নং ৩৯৩
১৫। Time, Monday September 17, 1973
১৬। The Non-aligned World, University of California, Page 396
১৭। Bengal and Bangladesh: Politics and Culture on the Golden Delta By Elliot Tepper, Glen Alexander Hayes, Page 101
১৮। The Observer, London, 24 February 1974
১৯। Asian Tribune, 9 August 2007
২০। Bangladesh and the OIC, Syed Muazzem Ali, The Daily Star supplement, February 19, 2006
২১। South Asia in World Politics By Devin T. Hagerty, page 73
২২। The Economist, London, 2 March 1974
২৩। The Return of the Magician, Time, Monday, Mar. 11, 1974
২৪। Bangladesh in 1974: Economic Crisis and Political Polarization, Talukder Maniruzzaman
Asian Survey, Vol. 15, No. 2 (Feb., 1975), pp. 117-128
২৫। The. Case of Bangladesh: Bringing to Trial the Perpetrators of the 1971 Genocide, Page no. 105-106

সামহোয়্যারইন এ মুল লেখাটির লিংক
__________________
You only play good cricket when you win/draw matches.
I am with Bangladesh, whether they win or lose . http://twitter.com/BanglaCricket
Reply With Quote
  #2  
Old March 11, 2008, 03:23 AM
RazabQ's Avatar
RazabQ RazabQ is offline
Moderator
BC Editorial Team
 
Join Date: February 25, 2004
Location: Fremont CA
Posts: 10,091

Dude serious where do you find the time? I come home and barely have time to get the kids fed and in bed - and I come back from work at a decent hour. ধন্যি মিরাজ! ধন্যি!. On to the topic - very very educational so thank you. Amazing what "Realpolitik" can lead to. I'm personally ambivalent about the whole ঘাদানিক stuff (because at some point you have to stop dwelling in the past). But on this Pakistani nationals topic, I have no ambiguity. It IS a bleepin' shame that our struggles as a new nation forced us to compromise on these 195 criminals. No big fan of Mujib, but I can't see how one can fault the man for bowing to pretty much unanimous international pressure; perhaps if he hadn't mismanaged the famine situation we'd have had a stronger hand. But then again, one of the biggest criminal was Bhutto himself whose refusal to share power with Mujib and collusion with Yahya hastened our স্বাধিনতা যুদ্ধ and the subsequent war-crimes.
Reply With Quote
  #3  
Old March 11, 2008, 11:09 AM
BD-Shardul BD-Shardul is offline
Banned
 
Join Date: October 16, 2006
Location: Doha, Qatar
Favorite Player: Mash,Shakib,Tamim
Posts: 7,046

deleted

Last edited by BD-Shardul; December 6, 2009 at 06:06 PM..
Reply With Quote
  #4  
Old March 11, 2008, 11:52 AM
Rabz's Avatar
Rabz Rabz is offline
BanglaCricket Staff
BC - Bangladesh Representative
 
Join Date: February 28, 2005
Location: Here
Favorite Player: Father of BD Cricket
Posts: 20,466

মিরাজ ভাই, আপনার তুলনা আপনিই ।
অসংখ্য ধন্যবাদ।

This information is really a pure goldmine esp for us, the post-war generation.
Personally, i have no words to describe how should i thank you.
A lot of hazy things now makes sense and the whole picture is a lot more clearer.

May be you should get this published in a local daily (bangladeshi eg prothom-alo, jugantor, daily star).

This generation has got a lot to learn about the true history of our independence and more importantly, the post-war politics and the situation.

Once again, Thank You.
__________________
Verily, in the remembrance of Allah do hearts find rest [Al-Qur'an,13:28]
Reply With Quote
  #5  
Old March 11, 2008, 11:58 AM
Miraz's Avatar
Miraz Miraz is offline
BC Staff
BC Editorial Team
 
Join Date: February 27, 2006
Location: London, United Kingdom
Favorite Player: Mohammad Rafique
Posts: 14,900

রজব ভাই, লজ্জা দিয়েননা । কিভাবে যেন সময় বের হয়ে যায়!! তবে বাংলাদেশের ইতিহাসের যে হারে কাটাছেড়া করা হয়েছে তা দেখে সত্যিকারের ইতিহাস খুজে বের করার চ্যালেন্জটাও একটা প্রেরণার মতো ।

পাকিস্তানী যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রসংগে...

শেখ মুজিবের সামনে আর কোনো অপশন ছিলো কিনা বলাটা বর্তমান সময়ে সহজ নয় । তবে আন্তর্জাতিক আদালতে যাওয়ার অপশন ছিলো । পাকিস্তান যেহেতু আন্তর্জাতিক আদালতের শরণাপন্ন হয়েছিলো তাই বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক আদালতে গেলে পাকিস্তানের তার বিরোধিতা করার নৈতিক অবস্থান থাকতোনা ।

আরেকটি ব্যাপার হচ্ছে বাংলাদেশের পক্ষ লবির তুলনামুলক নির্লিপ্ততা । ভারত-সোভিয়েত ইউনিয়ন লবি সক্রিয় ভূমিকা নিলে শেখ মুজিবুর রহমানের অবস্থান আরো শক্ত হতো । মুসলিম দেশগুলির সাথে কূটনৈতিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপনে বঙ্গবন্ধুর আগ্রহও আমাদের কূটনৈতিক পরাজয়ের আরেকটি কারণ ।
__________________
You only play good cricket when you win/draw matches.
I am with Bangladesh, whether they win or lose . http://twitter.com/BanglaCricket
Reply With Quote
  #6  
Old March 11, 2008, 12:04 PM
Miraz's Avatar
Miraz Miraz is offline
BC Staff
BC Editorial Team
 
Join Date: February 27, 2006
Location: London, United Kingdom
Favorite Player: Mohammad Rafique
Posts: 14,900

Thanks Rabz. I am not sure whether any local daily will be interested to publish this piece !

I'll give it a try. I'll send it to couple of dailies and will let you know the response.

National Dailies are very much politically motivated, they really don't like neutral views.
__________________
You only play good cricket when you win/draw matches.
I am with Bangladesh, whether they win or lose . http://twitter.com/BanglaCricket

Last edited by Miraz; March 11, 2008 at 12:11 PM..
Reply With Quote
  #7  
Old March 11, 2008, 12:22 PM
RazabQ's Avatar
RazabQ RazabQ is offline
Moderator
BC Editorial Team
 
Join Date: February 25, 2004
Location: Fremont CA
Posts: 10,091

Well, frankly given how much we needed the aid and the buoyancy of the petro-dollar, you can understand why Mujib courted the OIC nations so. As for going to the international court, we'd have been probably pressured to drop that too.

Again disclaimer, I pretty much can't stand the BAL.
Reply With Quote
  #8  
Old March 11, 2008, 12:29 PM
Miraz's Avatar
Miraz Miraz is offline
BC Staff
BC Editorial Team
 
Join Date: February 27, 2006
Location: London, United Kingdom
Favorite Player: Mohammad Rafique
Posts: 14,900

Quote:
Originally Posted by RazabQ
Well, frankly given how much we needed the aid and the buoyancy of the petro-dollar, you can understand why Mujib courted the OIC nations so. As for going to the international court, we'd have been probably pressured to drop that too.

Again disclaimer, I pretty much can't stand the BAL.
The irony is we received almost nothing from the OIC nations after dropping the charges. Kuwait gave us some aid which was less than the aid given in the previous year (1973).
__________________
You only play good cricket when you win/draw matches.
I am with Bangladesh, whether they win or lose . http://twitter.com/BanglaCricket
Reply With Quote
  #9  
Old March 11, 2008, 12:56 PM
Sohel's Avatar
Sohel Sohel is offline
Cricket Savant
 
Join Date: April 18, 2007
Location: Dhaka
Favorite Player: Nazimuddin
Posts: 35,287

Miraz,

Please do not be discouraged. The struggle will continue as long as we live. Currently, the Sector Commanders are leading the charge, and while the results may not be what we'd want them to be at this stage, the process is more intense than ever with strong support across party lines and also from Gen Moeen U Ahmed, whether some of us like him or not.

Thanks for this thread BTW. This is the type of stuff can give us the much needed second wind ...

GOD bless you and your family and keep the faith my brother.

Peace, Sohel.
__________________
"And do not curse those who call on other than GOD, lest they blaspheme and curse GOD, out of ignorance. We have adorned the works of every group in their eyes. Ultimately, they return to their Lord, then He informs them of everything they had done." (Qur'an 6:108)
Reply With Quote
  #10  
Old March 11, 2008, 01:21 PM
Tigers_eye's Avatar
Tigers_eye Tigers_eye is offline
Cricket Sage
 
Join Date: June 30, 2005
Location: Little Rock
Favorite Player: Viv Richards, Steve Waugh
Posts: 24,953

Thank you Miraz bhai for this piece. Generations coming next can have an idea of what went on.

I do not fault Mujib on the deals he made in order to get recognize by China (eventually UN). May be he could have asked help from USSR and India to pressure Pakistan but that was about it. I don't think that would have had much affect.

Them 195 got freed, correct. (Only in this life, Much harsher punishment awaits I fear.)

The other recognized then Pakistani now Bangladeshi war criminals can be tried.

Finally, I salute for your hard work, dedication and passion that you have for Bangladesh. Devotion and sincere love for the motherland can only bring out a piece like this. May you have 40 hours a day instead of the 30 hours a day you have now.

By the way, can I borrow the time slowing machine you have. I promise I would not share with anyone else.
__________________
The Weak can never forgive. Forgiveness is an attribute of the Strong." - Ghandi.
Reply With Quote
  #11  
Old March 11, 2008, 01:39 PM
sadi's Avatar
sadi sadi is offline
Cricket Legend
 
Join Date: January 3, 2005
Location: In my room
Favorite Player: Mushi
Posts: 6,709

Thank you Miraz bhai. I seriously learned a lot about this topic today.
Reply With Quote
  #12  
Old March 11, 2008, 02:25 PM
Omio's Avatar
Omio Omio is offline
Banned
 
Join Date: February 25, 2006
Location: London, UK
Favorite Player: Only Ashraful & Me
Posts: 4,429

Tnx Miraz vai, onek kisu janlam..
Reply With Quote
  #13  
Old March 11, 2008, 03:25 PM
BD-Shardul BD-Shardul is offline
Banned
 
Join Date: October 16, 2006
Location: Doha, Qatar
Favorite Player: Mash,Shakib,Tamim
Posts: 7,046

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার আমরা করতে পারিনি। সেটা দুঃখজনক। কিন্তু আজকে আমাদের স্বাধীন বাংলাদেশে মানুষ কি সুবিচার পাচ্ছে? এসিড নিক্ষেপ, ধর্ষণ, খুন, সন্ত্রাস, রাহাজানি, জবাই করে মানুষ হত্যা, লুট-সংবাদপত্র খুললেই এই ধরণের খবর কী চোখে পড়ে না? এখানে কী নির্যাতিতরা বিচার পায়? পায় না। তারপর রাজনীতিবিদের কথা ধরেন। শেখ মুজিব নিজে বলেছিলেন, “মানুষ পায় সোনার খণি, আমি পেয়েছি চোরের খণি।“ চোর আবার কেমন চোর জানেন? শেখ সাহেবের সময় বাংলাদেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষের জন্য বিদেশিরা সাড়ে সাত কোটি কম্বল দিয়েছিল। মুজিব বলেছেন, আমি নিজের কম্বল্টাই পাই নাই। তাহলে চিন্তা করূন, সেই, সেই মুজিবের আমল থেকে যারা বাংলাদেশের গরিব দুস্থ মানুষ, কৃষক, শ্রমিক, কুলি-মজুরদের পয়সা হাতিয়ে আজ বড়লোক বনে গেছে, তাদের বিচার কে করবে? এখন হয়তো কিছু রুই-কাতলা ধরা পড়েছেন, কিতু নির্বাচনের পর যে আবার পুর্বের চেহারা আবির্ভুত হবে না তার গ্যারান্টি কী? আর পাকিস্তানি আমালের রাজাকার বা যুদ্ধাপরাধীদের চেয়েও যে ভয়ঙ্কর জীব বাংলাদেশে পয়দা হয়েছে, তা কী জানেন? তাদের কয়েকজন হল জয়নাল হাজারী, সাকা চৌধুরী। এরা স্বাধীন বাংলাদেশের মানুষের উপর যে অত্যাচার করেছে, তা যুদ্ধাপরাধীদের নারকীয়তাকেও হার মানায়। শ্রী ঘরে পুরেই কী বিচার পর্ব খতম? স্বাধীনতা কি তাহলে রাজনৈতিক গন্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকল না? কিন্তু আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের বাংলাদেশ কিন্তু রাজনৈতিক গণ্ডিতে আবদ্ধ ছিল না। এর জবাব কে দেবে?আমি তো মনে করি আজকে স্বাধীন বাংলাদেশে যারা এই অপরাধগুলো করে পার পেয়ে যাচ্ছে। তারা সেই পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধীদের চেয়েও সৌভাগ্যবান।
Reply With Quote
  #14  
Old March 11, 2008, 04:04 PM
Tigers_eye's Avatar
Tigers_eye Tigers_eye is offline
Cricket Sage
 
Join Date: June 30, 2005
Location: Little Rock
Favorite Player: Viv Richards, Steve Waugh
Posts: 24,953

Back then situation was different. Many if not most had a rifle or some kind of firearms. Family destroyed, house looted and people (the survivors) had firearms and ammunitions. Perfect environment for all out chaos. Banks got robbed in day light. Awami/Bakshal workers tried to use their power over Jashod, muslim league and others. No one backed down cause everyone had armed. Everyone had claim that, "I freed the country not for you to loot". No one wanted to give up their firearms and lose the security they had. On top, the declaration of rokkhi bahini was icing on the cake. At least that generation after sacrificing so much had reasons of their misdeeds. We have none.

Tareq'r moto pola, who had a dad where many like me looked as a roll model, turned out to be the worst kind. 2009 will be real testing times for Bangladesh.
__________________
The Weak can never forgive. Forgiveness is an attribute of the Strong." - Ghandi.
Reply With Quote
  #15  
Old March 11, 2008, 04:53 PM
BD-Shardul BD-Shardul is offline
Banned
 
Join Date: October 16, 2006
Location: Doha, Qatar
Favorite Player: Mash,Shakib,Tamim
Posts: 7,046

I am not BNP supporter, but I like the activites of Major Zia except for the following:

He brought back Golam Azam from Pakistan. I just don't understand that. He himself was a Bir-Uttom, and a brave freedom fighter. Then how come he brought back Golam Azm to BD who even after returning to BD claimed that he was a Pakistani?
Reply With Quote
  #16  
Old March 11, 2008, 05:02 PM
BD-Shardul BD-Shardul is offline
Banned
 
Join Date: October 16, 2006
Location: Doha, Qatar
Favorite Player: Mash,Shakib,Tamim
Posts: 7,046

Also, read the following news from following two links. Prothom Alo published this two news today in Nari Moncho. Pore chokhe pani ese gelo. I just don't understand how can people become so "জালেম" Who will establish justice? Let alone religion, people have even forgot there is Allah.

Dalimoon had a baby boy

Ar konodin mayer ador pabo na
Reply With Quote
  #17  
Old March 13, 2008, 01:55 PM
irteja's Avatar
irteja irteja is offline
Test Cricketer
 
Join Date: February 11, 2006
Location: http://twitter.com/irteja
Favorite Player: Sakib, Tamim, Tendulkar
Posts: 1,869

Thanks miraz bhai
__________________
Fire Lotta Kamal
Reply With Quote
  #18  
Old March 14, 2008, 04:13 AM
ammark's Avatar
ammark ammark is offline
Moderator
 
Join Date: May 17, 2005
Location: Melbourne
Posts: 6,074

Thanks Miraz Bhai. This is Most enlightening.
Reply With Quote
  #19  
Old March 16, 2008, 07:02 AM
Navarene's Avatar
Navarene Navarene is offline
Cricket Legend
 
Join Date: December 25, 2003
Location: Polatok
Favorite Player: Sangakkara
Posts: 2,233

Quote:
Originally Posted by BD-Shardul
I am not BNP supporter, but I like the activites of Major Zia except for the following:

He brought back Golam Azam from Pakistan. I just don't understand that. He himself was a Bir-Uttom, and a brave freedom fighter. Then how come he brought back Golam Azm to BD who even after returning to BD claimed that he was a Pakistani?
Remember the over all political situation during Zia's coup to capitalize the state mechanism? He badly needed some political support to justify and get hold of the power. On one hand the leftist groups were active under the leadership of Jatiyo Shomajtantrik Dol (Jasad), there were fractions of Siraj Shikdar, extreme leftist groups like Purbo Bangla Communist Party and more.

On the other hand, the rout level Awami League forces were active at the same level. Moreover, he had to brutally kill many fraction army groups including the great colonel Taher to stabilize and ensure his power in the state mechanism. This way he became totally friendless and desperately looking for a political back up to justify his regime. No wonder that the war criminals and the Islamic forces wanted to rehabilitate themself at this chaotic political unstability. Zia wasted no time to embrace them as his friends to strengthen his power since he was completely friendless at that time. The end result was the emergence of anti-independence Islamic forces, rehabilitation of war criminal Golam Azam and his party Jamyat-I-Islam.

Miraz, a great work is done by you. We all are thankful for this great piece.
__________________
\"In this game, there is no pretending, no mercy, no second chance....in the middle of this huge arena he is on trial, one against eleven, with no one to protect him.....cricket is not a game, it is the truth of life\"
-- J.M.Coetzee, In Boyhood: Scenes from a Provincial Life

Last edited by Navarene; March 16, 2008 at 07:08 AM..
Reply With Quote
  #20  
Old March 17, 2008, 01:41 PM
bdchamp20 bdchamp20 is offline
Cricket Legend
 
Join Date: December 8, 2007
Posts: 3,921

Great read, Miraz bhai. If we want justice of these rajakars...it must be the care-taker government who will deliver. But at the moment it looks like the care-taker government, Moeen U Ahmed and the President are indirectly supporting them. They rejected a case against them, they are inviting them to parties and surprisingly neither Motiur or Mojahid are in the corruption list. I think there is no hope to get justice from this government as well. But I have a feeling that AL will do something about it if they get re-elected but only and only if BNP stops supporting Jamaat.
Reply With Quote
  #21  
Old December 5, 2009, 11:51 AM
auntu's Avatar
auntu auntu is offline
Cricket Guru
 
Join Date: March 7, 2007
Location: elsewhere
Favorite Player: ZAR
Posts: 9,848

পুরানো সুতাটা আবার খুচিয়ে আনলাম কারন মিরাজ ভাইয়ের এই অনন্য সাধারন পোষ্টটি বারংবার পড়ার মতো। এছাড়া খুব বেশী রিপ্লাইও দেখি নাই অর্থাৎ বেশী মানুষ পড়েও নাই। তাই আসুন আবার পড়ি।

বিজয়ের এই মাসে যখন বুকে রক্তক্ষরণ হয় আমাদের। নিঃস্ফল আক্রোশে মাথা কুটে মরি -- কোন বিচার হবে না?

নিঃশ্চয়ই কোন পথ বের হবে এই আশায় দিন গুনছি।
__________________
﴾اَلَاۤ اِنَّ اَوۡلِيَآءَ اللّٰهِ لَا خَوۡفٌ عَلَيۡهِمۡ وَلَا هُمۡ يَحۡزَنُوۡنَ ۖ ۚ‏ ﴿۶۲
"Listen, the friends of Allah shall have no fear, nor shall they grieve" (Yunus: 62)
Reply With Quote
  #22  
Old December 6, 2009, 02:07 PM
Rabz's Avatar
Rabz Rabz is offline
BanglaCricket Staff
BC - Bangladesh Representative
 
Join Date: February 28, 2005
Location: Here
Favorite Player: Father of BD Cricket
Posts: 20,466

Thanks for bringing it up Auntu bhai.
Timing is impeccable.
__________________
Verily, in the remembrance of Allah do hearts find rest [Al-Qur'an,13:28]
Reply With Quote
  #23  
Old December 7, 2009, 05:13 AM
auntu's Avatar
auntu auntu is offline
Cricket Guru
 
Join Date: March 7, 2007
Location: elsewhere
Favorite Player: ZAR
Posts: 9,848

Quote:
Originally Posted by Rabz
Thanks for bringing it up Auntu bhai.
Timing is impeccable.
Welcome Rabz bhai. I hope everyone would read.
__________________
﴾اَلَاۤ اِنَّ اَوۡلِيَآءَ اللّٰهِ لَا خَوۡفٌ عَلَيۡهِمۡ وَلَا هُمۡ يَحۡزَنُوۡنَ ۖ ۚ‏ ﴿۶۲
"Listen, the friends of Allah shall have no fear, nor shall they grieve" (Yunus: 62)
Reply With Quote
  #24  
Old December 7, 2009, 10:53 PM
yaseer's Avatar
yaseer yaseer is offline
Cricket Legend
 
Join Date: August 29, 2004
Location: Brisbane
Favorite Player: Rafique & Pailot
Posts: 6,335

I missed this "must read" article. Thanks to Auntu Bhai for bringing this up again.

To Miraz Bhai, well you deserve more than a Thank you. Learned a lot from this article and many things that I just heard before, now got clearer.
Reply With Quote
  #25  
Old December 8, 2009, 12:02 AM
yaseer's Avatar
yaseer yaseer is offline
Cricket Legend
 
Join Date: August 29, 2004
Location: Brisbane
Favorite Player: Rafique & Pailot
Posts: 6,335

By reading various articles, I came to know that there was a big anti-Indian concept in mass population in 1975 era. Killing of Sk. Mujib and following massacres in the month of November had lot to do with it. One of the reasons that Khaled Mosharref could not gain the faith of general soldiers/army officials after the coup on 3rd November 1975, because there was a notion that Khaled Mosharraf was pro-Mujib and thus spy of India.

Just wondering what were the reasons that mass people went anti-Indian in few years time after the independence.
Reply With Quote
Reply

Bookmarks


Currently Active Users Viewing This Thread: 1 (0 members and 1 guests)
 
Thread Tools
Display Modes

Posting Rules
You may not post new threads
You may not post replies
You may not post attachments
You may not edit your posts

BB code is On
Smilies are On
[IMG] code is On
HTML code is On



All times are GMT -5. The time now is 07:23 PM.


Powered by vBulletin® Version 3.8.7
Copyright ©2000 - 2014, vBulletin Solutions, Inc.
BanglaCricket.com
 

About Us | Contact Us | Privacy Policy | Partner Sites | Useful Links | Banners |

© BanglaCricket